ইসির তিন কমিশনারের আচরণ ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থের পক্ষে: রিজভী

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

ইসির তিন কমিশনারের আচরণ ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থের পক্ষে বলে অভিযোগ করেছেন ‌বিএন‌পির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাস‌চিব রুহুল ক‌বির রিজভী।

৭ ডি‌সেম্বর, শুক্রবার বেলা সা‌ড়ে ১১টার দি‌কে নয়াপল্ট‌নে দ‌লের কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে আ‌য়ো‌জিত সংবাদ স‌ম্মেল‌নে বক্ত‌ব্যে রিজভী এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাৎ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তবে তাদের ভূমিকা ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থের পক্ষে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম নিয়মিত এদের সাথে ফোনে নির্বাচনের বিভিন্ন ধরনের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে থাকেন বলেও জনান্তিকে নানা কথা ভেসে বেড়ায়। সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব এদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ একজনকে দেওয়া হয়েছে। এই কমিশনারের মাধ্যমে ইসিকে এইচ টি ইমাম সব ধরনের নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রতিদিন সিইসির নিকট বার্তাবাহকের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা পাঠানো হয়। সিইসির দফতর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।’

‘রিটার্নিং অফিসারদের নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সেল স্থাপন করা হয়েছে। ২ ডিসেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সেলের কাছে থেকে পরামর্শ নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট কাউকে স্বতন্ত্র প্রার্থী না করার বিষয়ে কড়া নির্দেশনা ছিল। নির্বাচন কমিশনও আপিলে স্বতন্ত্র প্রার্থিতা বহালের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশনা অনুসরণ করেছে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারককে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা সেলের আইন উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘ভোটে কারচুপির জন্য জোন ভাগ করে পুলিশের ১২ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকা মহানগর, ঢাকা বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগে এডিশনাল আইজি, ডিআইজি ও এআইজি র‌্যাঙ্কের অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

‘রাজশাহী ও রংপুর জোনে র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ডিআইজি ও এআইজি পদমর্যাদার অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খুলনা ও বরিশাল জোনেও একইভাবে এসবির অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি এবং সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন পুলিশ সদর দফতরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জোনগুলোর বৈঠক সম্পন্ন করেছেন।’

সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, ‘পুলিশের এই ১২ জন কর্মকর্তা ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রভিত্তিক আওয়ামী লীগ-বিএনপির কেন্দ্রের তালিকা, কেন্দ্রভিত্তিক হিন্দু ভোটারদের অবস্থান, কেন্দ্রভিত্তিক বিএনপির অবস্থান, কেন্দ্রভিত্তিক বিএনপির প্রভাবশালীদের নামের তালিকা প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যালটের বাইরে অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানো হবে; যা থানায় ভোটের আগে সংরক্ষণ করে রাখা হবে। প্রয়োজনমতো ব্যালট বাক্সে ঢোকানো হবে।’

‘প্রস্তুত করে রাখা নকল সিল প্যাড প্রিসাইডিং অফিসারদেকে সরবরাহ করবে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনে মূল সিল প্যাড এবং স্বাক্ষর থাকবে আর বিএনপির পোলিং এজেন্টদেরকে নকল সিল প্যাড ও স্বাক্ষরে মূল ফলাফল সংবলিত শিট সরবরাহ করা হবে। প্রিসাইডিং অফিসারদের মূল স্বাক্ষরে ফলাফল শিটে ভোট গণনা পরিবর্তন করে রিটার্নিং অফিসারকে প্রেরণ করার নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।’

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.