ভিকারুননিসার ছাত্রীদের আন্দোলন স্থগিত


ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আন্দোলনরত ছাত্রীদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পাওয়ায় আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীরা।

৬ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কর্মসূচি স্থগিত করে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয় তারা।

ছাত্রীদের মুখপাত্র আনুশকা রায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষকরা আমাদের সব দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা এখন ক্লাসে ফিরে যাব। আর যেগুলো আইনি বিষয়, সেগুলো আইনের মাধ্যমে সমাধান হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।’

শুক্রবার থেকে পরীক্ষা ও ক্লাসে ফিরে যেতে সব শিক্ষার্থীকে আহ্বান জানায় আনুশকা।

ছাত্রীদের আন্দোলনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বরখাস্তকৃত শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

এর আগে দুপুরে স্কুলের সামনে অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন স্কুলটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার। তিনি বলেন, ‘আমাদের একজন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি, ক্ষমা চাচ্ছি।’

এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে। তারা তিন জনই সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি।

আন্দোলনকারী ছাত্রীদের ৬টি দাবি হলো:

১. অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং ৩০৫ ও ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে তার শাস্তি নিশ্চিত করা।

২. প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে তাদের নিজস্ব আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আলাদা যত্ন নিশ্চিত করা।

৩. কোনোভাবেই কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং অত্যাচার প্রয়োগ করতে পারবে না।

৪. কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি বন্ধ করা।

৫. বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মরত সবার মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানসিক পরামর্শদাতা নিয়োগ দেওয়া। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী শিক্ষার্থীকে পরামর্শদাতার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া।

৬. গভর্নিং বডির সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে এবং অরিত্রীর মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য অধ্যক্ষ ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.