সৌদি যুবরাজকে ‘প্যাকম্যান’ বলেছিলেন খাসোগি

সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগির চোখে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান ছিলেন একজন ‘প্যাকম্যান’। সৌদি আরব থেকে কানাডায় নির্বাসিত বন্ধু ওমর আবদুল আজিজকে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় তিনি বিন সালমানকে ‘পশু’ ও ‘প্যাকম্যান’ বলে উল্লেখ করেন। ভারতীয় ভিডিও গেমের একটি চরিত্র ‘প্যাকম্যান’। ভিডিও গেমে ‘প্যাকম্যান’ তার পথের সবকিছু খেয়ে ফেলে। তার পথে অবস্থানকারী সমর্থকদেরও খেতে দ্বিধা করে না ‘প্যাকম্যান’।

৩ ডিসেম্বর, সোমবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ট্রিলভিত্তিক অধিকারকর্মী আবদুল আজিজকে চার শতাধিক বার্তা পাঠিয়েছিলেন খাসোগি। হোয়াটস অ্যাপে পাঠানো সেসব বার্তার মধ্যে যুবরাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর সমালোচনাও ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, খাসোগি ও আজিজের মধ্যে হোয়াটস অ্যাপের কথোপকথন সৌদি কর্তৃপক্ষ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে জেনে যাওয়ার পর হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে হোয়াটস অ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় খাসোগি সৌদি যুবরাজ সম্পর্কে লেখেন, ‘যত ভিকটিমকে তিনি খান, ততই তিনি চান।’

আবদুল আজিজ মনে করেন, তাদের মধ্যে যে কথোপকথন হতো, তা জেনে যাওয়ার কারণেই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে তারা বুঝতে পারেন তাদের বার্তা আদান-প্রদানের ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ নজরদারি করছে। তখনই খাসোগি ধারণা করেছিল তার সঙ্গে অমঙ্গলজনক কিছু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। খাসোগি সে সময় আবদুল আজিজকে বলেন, ‘ভয় পেও না, আল্লাহ আমাদের পাশে আছে।’ ওই ঘটানার ঠিক দুই মাস পর জামাল খাসোগি ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুুলেটে প্রবেশের পর খুন হোন।

আবদুল আজিজ বলেছেন, ইসরায়েলের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে সৌদি আরব তার ফোন হ্যাক করেছিল। রবিবার তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আবদুল আজিজ মনে করছেন, তার ফোনটি হ্যাক হওয়ার কারণেই হয়তো খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে।

You might also like

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.